ভুয়া সাংবাদিক–চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য, বিপাকে পেশাদাররা

ভুয়া সাংবাদিক–চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য, বিপাকে পেশাদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। গাড়িতে ‘প্রেস’ লিখে, ভুয়া অনলাইন পোর্টাল, অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এতে করে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব কথিত সাংবাদিক মোটরসাইকেল ও গাড়িতে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের স্টিকার লাগিয়ে ঘোরেন। ক্যামেরায়ও জাল স্টিকার লাগিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, কোনটি আসল আর কোনটি ভুয়া—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে অসংখ্য ইউটিউবভিত্তিক তথাকথিত টেলিভিশন চ্যানেল চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রকৃত গণমাধ্যম চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এদের বাহ্যিক আচরণ ও ঠাটবাট দেখে অনেক সময় সাধারণ মানুষ তো বটেই, পেশাদার সাংবাদিকরাও বিভ্রান্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ নয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও ভুয়া সাংবাদিক চিহ্নিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যথায় সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালাচ্ছে ময়মনসিংহের ছাগলচুরির মামলার আসামি আনিসুর রহমান ও কুমিল্লার জুয়েল খন্দকার। খবর প্রকাশের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভুয়া সাংবাদিক তৈরির ক্ষেত্রেও তারা জড়িত বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব কর্মকাণ্ডে মূলধারার সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয়ধারী প্রতারকদের নানা অপতৎপরতায় অনেক সময় থানা পুলিশও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু লোক গলায় ভুয়া পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে এবং গাড়িতে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে চলাফেরা করেন। তারা বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো চাঁদাবাজি, তদবির ও দালালি করে থাকেন।
এদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ১০ ব্যক্তির কাছ থেকে ভূমি সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের একজন সুজন জানান, আনিসুর রহমান তাদের গ্রামের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে ছাগল চুরির ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার কথাও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে বলে জানান কয়েকজন বাসিন্দা।
সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি লেখা প্রকাশ করলেই কেউ সাংবাদিক হয়ে যায় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নামসর্বস্ব পত্রিকা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আইডি কার্ড ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকরা মনে করছেন, ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণমাধ্যমে কাজের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোরও এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এখনই সময় প্রকৃত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব ভুয়া পরিচয়ধারী প্রতারকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার। অন্যথায় সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা

( এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। )

Comments are closed.




© All rights reserved © 2024 websitenews24.com